October 28, 2026, 10:01 am
শিরোনাম :
স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৫৭%

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের আর্থিক খাতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দুই মাসে সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্রে মোট ২ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

আগের অর্থবছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি এবার এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। আগের অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে বিক্রি ৮৯১ কোটি টাকা বা প্রায় ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও সঞ্চয়পত্রের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুধু জুলাই মাসেই সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের জুলাই মাসে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫৯ শতাংশ বেশি। যদিও আগস্ট মাসে এসে বিক্রির গতি কিছুটা শ্লথ হয় এবং নিট বিক্রি দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকায়। তবে আগের অর্থবছরের একই মাসের ২৭৮ কোটি টাকার তুলনামূলক হিসাবে আগস্টেও বিক্রি প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ছিল।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত থাকায় মানুষ সঞ্চয়পত্রকে বেছে নিচ্ছেন। ব্যাংকিং খাতের চলমান অনিশ্চয়তা এবং আমানতের সুদহারের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বেশ আকর্ষণীয় হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কিছুটা কমলেও, সীমিত সেই জমানো অর্থের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই গ্রাহকরা এই সরকারি খাতের দিকে ঝুঁকছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী এই বিষয়ে জানান যে, দেশের ব্যাংকিং খাত এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি। এই আস্থার ঘাটতি ও অনিশ্চয়তার কারণে আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে রাখতে চান। সঞ্চয়পত্রে মূলধন হারানোর কোনো ঝুঁকি না থাকা এবং তুলনামূলক ভালো মুনাফা পাওয়ায় সাধারণ মানুষ আবারও এই খাতে বিনিয়োগে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বলে তিনি মনে করেন।