October 28, 2026, 12:15 pm
শিরোনাম :
৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয়

মোংলা বন্দরে দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ৩৪ কোটি ডলার ঋণ দেবে চীন

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর মোংলাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই লক্ষে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনা মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৪০ কোটি আরএমবি এবং মার্কিন ডলারে প্রায় ৩৪ কোটি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর চাপ কমাতেই মূলত এই অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ শিরোনামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আলিয়া মেহের এবং চীন এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফেংজুন থিয়ান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। অত্যন্ত নমনীয় শর্তে এই ঋণ প্রদান করছে চীন সরকার, যেখানে সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র দুই শতাংশ। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি এই ঋণ পরিশোধের জন্য পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট কুড়ি বছর সময় পাবেন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

চুক্তির অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে মোংলা বন্দরে একাধিক নতুন অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংবলিত দুটি নতুন টার্মিনাল, বিশাল আয়তনের কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড এবং কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরটির পণ্য খালাসের ক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। মূলত পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে একটি ইতিবাচক গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

১৯৫০ সালে খুলনা জেলার চালনা এলাকায় যাত্রা শুরু করার পর ভৌগোলিক সুবিধার্থে তিন বছরের মাথায় বন্দরটির কার্যক্রম বাগেরহাটের মোংলায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৮৫ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে এবং মোংলার অংশ মাত্র এক শতাংশের কাছাকাছি। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোংলা বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত অর্থবছরে বন্দরটিতে প্রায় এক হাজার জাহাজ ভিড়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাড়ি ও কনটেইনার সফলভাবে খালাস করা হয়েছে। নতুন এই বিনিয়োগের ফলে মোংলা বন্দর অদূর ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।