October 28, 2026, 1:01 pm
শিরোনাম :
যে কারণে ২৫টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত করল সরকার টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব

ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হেনেছে। এর ফলে অঞ্চলটির স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং উপকূলীয় জেলাগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের কিছু অংশেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার সময় এর কেন্দ্রে বাতাসের তীব্র গতিবেগ ছিল এবং উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। বিশাখাপত্তনম, কাকিনাড়া, মছিলিপত্তনমসহ বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে অনেক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে কোনাসীমা জেলায় হাজার হাজার বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে বেশ কিছু ট্রেন ও ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্য সরকার প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশটি জেলায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং দুর্গতদের সহায়তায় বহু চিকিৎসা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু পুরো পরিস্থিতি সরাসরি তদারকি করছেন এবং শিশু, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোকেও নিরাপদে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি বাংলাদেশে আঘাত হানার কোনো আশঙ্কা না থাকলেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বলবৎ রাখা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র পেতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।