October 28, 2026, 1:01 pm
শিরোনাম :
যে কারণে ২৫টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত করল সরকার টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব

বন্দরে ড্রেজিংয়ে অপচয় দায়ী চিহ্নিতের নির্দেশ

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: দেশের অন্যতম দুই সমুদ্রবন্দর মোংলা ও পায়রায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ড্রেজিং করা হলেও কাঙ্ক্ষিত নাব্যতা অর্জিত হয়নি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বন্দর দুটির ড্রেজিং কার্যক্রমে প্রায় ছয় হাজার ৩৯০ কোটি টাকা খরচ করার পরও চ্যানেলের গভীরতা বৃদ্ধি পায়নি। সরকারি এই বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় রোধে এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, পায়রা বন্দরের চ্যানেলের গভীরতা বাড়ানোর জন্য ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ে প্রায় ছয় হাজার ২৬৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়। অথচ নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়ার পরেও চ্যানেলের আগের পাঁচ মিটার গভীরতাই বহাল রয়েছে এবং ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করা হয়েছে। একইভাবে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ১২৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ড্রেজিং করা হলেও কাঙ্ক্ষিত গভীরতা পাওয়া যায়নি। নদীর গতিপ্রকৃতি ও পলি জমার হার যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই এসব প্রকল্প নেওয়ায় সরকারি অর্থের এই অপচয় হয়েছে বলে কমিটি মনে করে।

এই পরিস্থিতিতে সংসদীয় কমিটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব নির্ধারণের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি অপচয় হওয়া সরকারি অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায় করার পাশাপাশি প্রয়োজন সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপচয় রোধ করতে কেবল মাটি অপসারণ নয়, বরং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গভীরতা বজায় রাখার শর্তযুক্ত ফলাফলভিত্তিক চুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পলি জমার সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে নদী শাসনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার একটি নতুন প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বৈঠকে বন্দরগুলোর ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও আমানত সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আর্থিক সংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক হাজার ২৬২ কোটি টাকার বেশি স্থায়ী আমানত রয়েছে। ব্যাংকগুলোতে তীব্র তারল্যসংকট থাকায় এসব আমানত ফেরত পাওয়া নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে প্রয়োজনীয় হিসাবভিত্তিক সংস্থান না রাখায় বৈঠকে আপত্তি জানানো হয়েছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত দ্রুত ফেরত আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।