October 28, 2026, 10:00 am
শিরোনাম :
এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম

প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে ‘মুসলিম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’

Reporter Name

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথমবারের মতো স্বাধীন মুসলিম নির্মাতাদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হতে চলেছে। প্রচলিত ও গতানুগতিক ধারণার বাইরে গিয়ে মুসলিম সংস্কৃতি, আবেগ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বাস্তব ঘটনাগুলো রূপালি পর্দায় তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১১ অক্টোবর ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এসভিএ থিয়েটারে দিনব্যাপী এই উৎসবের পর্দা উঠবে। নিউ ইয়র্কের বুকে মুসলিম স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এটিই প্রথম কোনো বড় মাপের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

এই উৎসবের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মূলধারার গণমাধ্যমে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর কেবল প্রতিবাদ করাই তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং মুসলিমদের নিজেদের জীবনের সত্য গল্পগুলোকে সিনেমার জগতে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। উৎসবের আর্ট ডিরেক্টর হাসান বাবর এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, তারা কেবল ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে চান না, বরং শিল্পকলার মাধ্যমে নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরতে চান। এছাড়া উৎসবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নাওয়াল মুবিন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে, এই শহরে মুসলিমদের নিজেদের গল্পগুলো স্বগৌরবে প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা অন্যের তৈরি করা কোনো নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকতে রাজি নন।

দিনব্যাপী এই জমকালো আয়োজনের শুরুতে একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা উৎসবের মূল কার্যক্রমকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমা পড়া কাজের মধ্য থেকে সাতটি দেশের মোট বারোটি বৈচিত্র্যময় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই উৎসবে প্রদর্শনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নির্বাচিত এই চলচ্চিত্রগুলোর অর্ধেকেরও বেশি নির্মাণ করেছেন নারী নির্মাতারা, যা নারী শক্তির একটি বড় প্রতিফলন। ড্রামা, কমেডি, প্রামাণ্যচিত্র, অ্যানিমেশন এবং সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট—এই কয়েকটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্রগুলো দুটি পৃথক পর্বে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে।

উৎসবের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন শাখায় সেরা কাজগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ জুরি সম্মাননা ও আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে। এই প্রতিযোগিতামূলক অংশের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ছয় সদস্যের মর্যাদাপূর্ণ জুরি বোর্ড। এই বোর্ডে যুক্ত রয়েছেন এমিজয়ী তারকা আসিফ মান্ডভি, আরব-আমেরিকান পরিচালক দারিন হোতাইত, প্রযোজনা প্রধান মুনীর আতাউল্লাহ এবং অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্রের প্রযোজক আবুবকর খানের মতো পরিচিত মুখেরা। তাঁদের উপস্থিতি এই নতুন চলচ্চিত্র উৎসবের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।