October 28, 2026, 12:46 pm
শিরোনাম :
টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়বে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের আয়কর নথি জব্দের আদেশ রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই: ইসি সচিব ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙায় পাঠ্যবই মুদ্রণে বাঁচল ১৪ কোটি টাকা

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। তবে সামগ্রিক আয় বাড়লেও পণ্যের বহুমুখীকরণ বা বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে খুব বেশি অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রচলিত এবং মৌলিক ক্যাটাগরির পণ্যের ওপরই এখনো অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল রয়েছে দেশের পোশাক খাত।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানে পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। এই তিন মাসে দেশ থেকে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারের পোশাক বিশ্ববাজারে পাঠানো হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৯৯৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে এই খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ছয় শতাংশেরও বেশি, যা আর্থিক অংকে ৬০ কোটি ডলারের বেশি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বাড়তি রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে সাধারণ ও মৌলিক প্রকৃতির পোশাক থেকে। গত বছরের তুলনায় এই শ্রেণির পণ্যের রপ্তানি সাত শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে আট শ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মোট পোশাক রপ্তানিতে এ ধরনের সাধারণ পণ্যের আধিপত্য আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ট্রাউজার, সোয়েটার এবং টি-শার্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পোশাকের বৈদেশিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সামগ্রিক রপ্তানি চাঙ্গা রয়েছে।

অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে উন্নত এবং উচ্চমূল্যের পোশাকের বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকার লড়াই বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ক্যাটাগরির পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত মন্থর গতিতে চলছে এবং কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বরং নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বা পতন লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে শীতের পোশাক, স্পোর্টসওয়্যার এবং বিশেষায়িত নারী পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ার ফলে উন্নত শ্রেণির পণ্যের সামগ্রিক বাজার হিস্যা কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে কেবল মৌলিক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতেই হবে। ভবিষ্যতে উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও কারিগরি পোশাকের উৎপাদন এবং রপ্তানি বাড়াতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি লাভবান হবে। নতুবা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।