October 28, 2026, 9:41 am
শিরোনাম :
গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ

পূজামণ্ডপে ‘ঘুমহীন প্রহরীর’ ভূমিকা পালন করবেন বিএনপি নেতাকর্মীরা: রিজভী

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই নিরাপদে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেজন্য দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন। স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে স্বেচ্ছাসেবক ও পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবেন তারা। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। দলটির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীরা মণ্ডপের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কিংবা বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা।

বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি কুচক্রী মহল দেশ ও গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র এবং নীলনকশায় লিপ্ত রয়েছে। তবে সরকারের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সুচারু পরিচালনার মাধ্যমে এসব অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীকে যেকোনো ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সর্বদা সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিজভী উল্লেখ করেন যে, বিএনপির কর্মীরা ঘুমহীন প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। এই বিষয়ে দলের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত সচেতন এবং সজাগ রয়েছে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান। দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিএনপি ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। খায়রুল কবির খোকন এবং ইমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে গঠিত এই পর্যবেক্ষণ কমিটি সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবে। এর আগেও দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুর্গাপূজার নিরাপত্তার পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক তৎপরতা আরও কীভাবে গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা বিভিন্ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও ইসমাইল জবিউল্লাহসহ দলের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রুহুল কবির রিজভী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, আজকের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কিংবা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এ ছাড়া দলের আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়েও বৈঠকে কোনো কথা হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এ ধরনের বিষয়ে পরবর্তীতে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা গণমাধ্যমকে যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।