October 28, 2026, 10:01 am
শিরোনাম :
স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়লেন হৃদয় এশিয়া কাপ আর্চারিতে বাংলাদেশের মেয়েদের সোনা জয় গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনই ইসির সক্ষমতার পরীক্ষা: ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কাল, নিরাপত্তায় ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড বল প্রয়োগের শক্তিই হলো ‘বলের মাত্রা’ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

ছেলের আসক্তি ছাড়াতে গিয়ে নিজেই জনপ্রিয় গেমার, তারকা খ্যাতি বৃদ্ধা মায়ের

Reporter Name

দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের মেইঝৌ শহরের বাসিন্দা ঝোং জুয়ানজুয়ান বর্তমানে ই-স্পোর্টস ও অনলাইন গেমিং দুনিয়ায় এক আলোচিত নাম। ৬০ বছর বয়সি এই প্রবীণ নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আন্টি জুয়ান’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। জীবনের দীর্ঘ সময় বিভিন্ন খণ্ডকালীন কাজ করার পর অবসর নেওয়া এই নারী চার বছর আগে মূলত শখের বশেই ভিডিও গেম খেলা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রতিদিন তাঁর গেমিং লাইভ-স্ট্রিম উপভোগ করতে অনলাইনে হাজার হাজার দর্শকের ভিড় জমে, যা তাঁকে এনে দিয়েছে তারকা খ্যাতি।

কয়েক বছর আগে পারিবারিক জীবনে এক বড় সংকটের কারণে ঝোংয়ের ভার্চুয়াল গেমিংয়ের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। প্রায় দুই দশক আগে তাঁর ছেলে স্কুলজীবনেই ভিডিও গেমের প্রতি তীব্রভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল, যার ফলে তার পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সেই সময় ছেলেকে ইন্টারনেট ক্যাফে থেকে খুঁজে এনে শাসন করা ছিল ঝোংয়ের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। পরবর্তীতে কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর ছেলে বাড়িতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলায় মগ্ন থাকলে, যুবপ্রজন্মের এই আসক্তির মূল রহস্য উদঘাটন করতে নিজেই গেমিং দুনিয়ায় প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

ছেলের গেমিং আসক্তি দূর করার উদ্দেশ্যে মাঠে নামলেও উল্টো নিজেই গেমিংয়ের প্রেমে পড়ে যান এই নারী। শুরুর দিকে তাঁর ছেলে মায়ের এই আগ্রহ দেখে অবাক হলেও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁকে গেমিংয়ের বিভিন্ন কৌশল ও নিয়মকানুন শেখাতে শুরু করে। বয়সের ভারে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং হাত ও চোখের সমন্বয়ের গতি ধীর হওয়ায় ৬০ বছর বয়সে এসে গেম শেখা ঝোংয়ের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি গেমের চরিত্রকে সোজা পথে পরিচালনা করতে কিংবা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে গিয়েও বারবার ব্যর্থ হচ্ছিলেন।

শারীরিক ও বয়সজনিত নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ঝোং কখনো হাল ছেড়ে দেননি, বরং নিয়মিত কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের দক্ষতাকে উন্নত করেন। তিনি বিভিন্ন কৌশলগত শুটিং গেমের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন এবং ২০২০ সাল থেকে নিয়মিত গেম খেলার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। অত্যন্ত সাধারণ মানের কম্পিউটার ও সরঞ্জাম দিয়ে চমৎকার খেলা দেখিয়ে তিনি খুব দ্রুত দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং এ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার ঘণ্টার বেশি সময় অনলাইন গেমসে কাটিয়েছেন।

তাঁর এই অসামান্য জেদ ও সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও স্বীকৃতি আসতে শুরু করে। এর আগে বিখ্যাত শুটিং গেম ‘কাউন্টার-স্ট্রাইক: গ্লোবাল অফেন্সিভ’-এর একটি বিশেষ অনলাইন প্রদর্শনী ম্যাচে খেলার জন্য আমন্ত্রণ পান তিনি। বর্তমানে প্রতিদিন তাঁর স্ট্রিম দেখতে আসা তরুণ প্রজন্মের কাছে ঝোং জুয়ানজুয়ান কেবল একজন সফল গেমার নন, বরং বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যেকোনো কিছু জয় করার অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল প্রতীক।