October 28, 2026, 8:57 pm
শিরোনাম :
পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিনস প্যান্ট ও অন্তর্বাসে পাচারের চেষ্টা, শাহজালালে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার তীব্র আশঙ্কার মুখে সৌদি আরবে অবস্থানরত জরুরি সেবায় নিয়োজিত নন এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারকে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের এক হালনাগাদ নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বাড়ার কারণে গত ২৩ অক্টোবর থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়েছে। এসব অতর্কিত হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি গোটা দেশের যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে হুথি বিদ্রোহীরা ২০১৪ সাল থেকে রাজধানী সানাসহ দেশটির একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত অবসানে ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর গত জুলাই মাস থেকে গোষ্ঠীটি সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আবারও তীব্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। কেবল আকাশপথ বা বিমানবন্দরই নয়, বরং সৌদি আরবের কৌশলগত জ্বালানি স্থাপনাগুলোও এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়মিত হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর আগে গত অক্টোবরে সংঘটিত একটি ভয়াবহ হামলায় তেরোজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং শতাধিক মানুষ আহত হন, যার ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধান বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল কর্র্তৃপক্ষ।

এদিকে হামলার তীব্রতা কিছুটা কমে আসার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে কেবল অভ্যন্তরীণ রুট এবং নির্দিষ্ট কিছু সৌদি বিমান সংস্থার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে চালু করা হলেও যেকোনো সময় নতুন করে হামলা হতে পারে কিংবা আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে, যা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, সৌদি আরবের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হলে এখন থেকে মার্কিন সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। সীমিত পরিসরে বিমানবন্দর চালুর পরো হুথি বিদ্রোহীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই বিমানবন্দরটি এখনো তাদের সামরিক লক্ষ্যের তালিকায় রয়েছে এবং তারা যেকোনো সময় ফের হামলা চালাতে পারে।

সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী সম্প্রতি হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে আকাশে প্রতিহত করার দাবি করেছে। তা সত্ত্বেও বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম আংশিক শুরু হওয়ায় দেশজুড়ে চলা আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য এই সংঘাত এখন একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পরিস্থিতিতে বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও কর্মীরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো।