October 28, 2026, 7:56 am
শিরোনাম :
গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে বিএনপির তৃণমূলে প্রশ্ন

Reporter Name

রাজনীতি ডেস্ক: কুমিল্লা জেলায় সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা প্রকৃত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে বিতর্কিত ব্যক্তিদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে এবং ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন উপজেলায়।

তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, সদ্য প্রকাশিত এই ডিলার তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কৃষিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনও ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা সার সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। তাদের মতে, এটি স্বৈরাচারী শক্তির পুনর্বাসনের একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।

এদিকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বড় অংকের ঘুষ লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগও পাওয়া গেছে কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার একজন বিএনপি নেতা প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন যে, তালিকা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, তিনি সম্পূর্ণ নীতিমালা অনুসরণ করে এবং নিরপেক্ষভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। একইভাবে ডিলারশিপ পাওয়া ব্যক্তিরা এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরাও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা তদবির বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেই চলেছে। জেলার একাধিক উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে এই তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্পষ্ট কথা, বিগত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী ও দোসররা যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে থাকে, তবে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা চরমভাবে অবমূল্যায়িত হবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পুনর্মূল্যায়ন করে প্রকৃত ও বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।