October 27, 2026, 10:56 pm
শিরোনাম :
ঘরে বসে কোরআনের অর্থ শিখবেন যেভাবে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা চলবে না: মুসাদ্দিক ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র: দুই দেশের নির্বাচনের পরিণতি হবে বিশ্বব্যাপী হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই হবে: সর্বোচ্চ নেতা জীবনানন্দের স্মরণে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্র ইসরায়েলের নির্বাচনে হারছে নেতানিয়াহুর জোট ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী ভাওয়াইয়া থেকে ইসলামি গান, আব্বাসউদ্দীন আজও অম্লান ওলামা অ্যালায়েন্সের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ইনজিমামুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য সরকারের: বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে আবিষ্কৃত ভাইরাসের ৯৯ শতাংশই বিজ্ঞানীদের অজানা

Reporter Name

পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রের তলদেশ নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের কৌতূহল ও গবেষণার অংশ হিসেবে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে থাকা পলিম্যাটালিক নোডিউলের পলিমাটিতে প্রচুর পরিমাণে জীবাণুর অস্তিত্ব রয়েছে। গভীর সমুদ্রের এই বিশেষ পরিবেশটি সাধারণ স্থলভাগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে মানুষের ধারণা অত্যন্ত সীমিত। সম্প্রতি পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় এই রহস্যময় অঞ্চলের গভীরে লুকিয়ে থাকা অজানা এক জগত উন্মোচিত হয়েছে।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও অণুজীব নিয়ে কাজ করা গবেষক দল ওই অঞ্চল থেকে সংগৃহীত নমুনার বিশদ জিনগত বিশ্লেষণ সম্পন্ন করেছেন। এই গবেষণার অংশ হিসেবে তারা প্রায় এগারো হাজার সাতশ চুয়াল্লিশটি স্বতন্ত্র ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। অত্যন্ত চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই বিশাল সংখ্যক ভাইরাসের প্রায় শতভাগ বা নিরানব্বই শতাংশই বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ও নতুন। এই আবিষ্কার অণুজীববিজ্ঞান এবং গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গভীর সমুদ্রের চরম প্রতিকূল পরিবেশ, তীব্র চাপ এবং সূর্যালোকহীনতার মতো চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সেখানে কীভাবে এই ভাইরাসগুলো টিকে রয়েছে, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই ভাইরাসগুলোর অধিকাংশই সামুদ্রিক ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য অণুজীবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং পুষ্টিচক্র সচল রাখতে এই অণুজীব ও ভাইরাসগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এদের সঠিক কার্যপদ্ধতি এবং অন্যান্য জীবের ওপর এদের প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল সমুদ্রের তলদেশ সম্পর্কে আমাদের জানাশোনাই সমৃদ্ধ করছে না, বরং পৃথিবীর আদিম ইতিহাসের অনেক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করতে সাহায্য করবে। পলিম্যাটালিক নোডিউল উত্তোলনের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা চলাকালীন এই ধরনের অণুজীবের উপস্থিতি পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই ভাবতে শুরু করেছেন গবেষকরা। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষায় এই নতুন তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।