October 28, 2026, 6:43 am
শিরোনাম :
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার আলোচনা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচন: জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পক্ষপাতিত্বের

তেল কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার

জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে সরকার। অবৈধ মজুদকারি ও কালোবাজারির মাধ্যমে সংকট তৈরি করলে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- প্রয়োগ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজ দলের কেউ জড়িত থাকলেও আগে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, তেলের সংকট প্রকৃত নয়, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এক শ্রেণির মানুষ একই দিনে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে তা বাসায় মজুদ করছে এবং পরে বোতল বা ড্রামে সংরক্ষণ করে আবার তেল নিতে আসছে। এভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, এতদিন সরকার নমনীয় অবস্থানে ছিল। তবে এখন প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারায় থাকা কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হবে, যার মধ্যে মৃত্যুদ-ও রয়েছে। এ জন্য প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মী এই কাজে জড়িত থাকলে তাদের আগে গ্রেপ্তার করতে হবে। কেউ যদি অপরাধীদের পক্ষে তদবির করে, তাকেও সহযোগী হিসেবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। গণভোট বাতিল হলে ‘জুলাই সনদ’ বাতিল হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা। জুলাই সনদ একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর দলিল,যা গণভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।

যারা ভিন্ন কথা বলছেন, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশন আইন, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় আইন ও গুম কমিশন বাতিলের গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব আইন বাতিল করা হচ্ছে না। বরং যাচাই-বাছাই শেষে নতুন আকারে পুনরায় উপস্থাপন করা হবে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ১২ লাখ কৃষকের জন্য মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বাজেটে ব্যাপকহারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হবে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ৩৮ হাজার পরিবার এসেছে। তিনি আরো জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ১৪ এপ্রিল দেশের ১১টি স্থানে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে,যার মধ্যে শৈলকুপাও রয়েছে। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রীর শৈলকুপা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। সেদিন স্থানীয় জনগণকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী।

এদিকে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে খাল নদীখনন ও দখল উচ্ছেদের বিকল্প নেই। যে যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন খাল জলাশয় ও নদী দখলমুক্ত করে খনন করা হবে। আগামী ১৮ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঝিনাইদহের শৈলকুপায় খান খনন কর্মসুচীতে অংশ নিবেন বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ জেলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগন ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।