October 28, 2026, 7:28 am
শিরোনাম :
মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি

আইনের ফাঁক ও তদবিরে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা

Reporter Name

অপরাধ ডেস্ক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। উঠতি বয়সের তরুণরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অলিগলিতে মহড়া দিচ্ছে এবং ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের সহিংস কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান চালালেও অপরাধের এই শেকড় সহজে উপড়ে ফেলা যাচ্ছে না।

কিশোর অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তীব্র সংকট। দেশে বর্তমানে মাত্র তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে অনুমোদিত আসন মাত্র ছয়শ হলেও বাস্তবে তার চেয়ে দ্বিগুণ কিশোরকে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। ধারণক্ষমতা না থাকায় পুলিশ অনেক সময় আইন অনুযায়ী আটকদের কেন্দ্রে পাঠাতে পারে না। এছাড়া জন্মসনদ ও বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে নানা জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবে অনেক কিশোর সহজেই থানা থেকে ছাড়া পেয়ে যায়।

আইন অনুযায়ী আঠারো বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি সুরক্ষা থাকে। তবে এই সুরক্ষার সুযোগ নিয়ে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে এই বয়সসীমা পুনর্বিবেচনা করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি জালিয়াতি রোধে বয়স যাচাইয়ের একটি দ্রুত ও নির্ভুল ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

কিশোর গ্যাংগুলোর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক গডফাদাররা মদদ জুগিয়ে থাকে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলেও রাজনৈতিক তদবির এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে মুচলেকায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এই সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে পুলিশ সদর দপ্তর এখন আইন সংশোধনসহ যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত নানা প্রস্তাবনা তৈরি করছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে থানাভিত্তিক ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি এবং মূল পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।