October 27, 2026, 11:22 pm
শিরোনাম :
ঘরে বসে কোরআনের অর্থ শিখবেন যেভাবে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা চলবে না: মুসাদ্দিক ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র: দুই দেশের নির্বাচনের পরিণতি হবে বিশ্বব্যাপী হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই হবে: সর্বোচ্চ নেতা জীবনানন্দের স্মরণে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্র ইসরায়েলের নির্বাচনে হারছে নেতানিয়াহুর জোট ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী ভাওয়াইয়া থেকে ইসলামি গান, আব্বাসউদ্দীন আজও অম্লান ওলামা অ্যালায়েন্সের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ইনজিমামুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য সরকারের: বিদ্যুৎমন্ত্রী

অবশেষে ধুমধামে বিয়ে সুচিত্রার

Reporter Name

সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের সূত্রধরপাড়ার বাসিন্দা সুজন চন্দ্র দাস ও কামনা রানী দাসের একমাত্র মেয়ে সুচিত্রা রানী দাসের জীবন সংগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। পরিবারের অস্বচ্ছলতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে এর আগে সুচিত্রার বিয়ের আয়োজন তিনবার পাকা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেঙে যায়। সেলুনকর্মী পিতার সামান্য আয়ে চার সদস্যের এই পরিবারের দিন চলত অত্যন্ত কষ্টে, আর তাই মেয়ের বিয়ের মতো বড় খরচের বোঝা বহন করা তাঁদের সাধ্যের বাইরে ছিল। অসুস্থতার কারণে সুচিত্রার মা চালকলের কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ার পর পরিবারটির আর্থিক সংকট আরও বেশি ঘনীভূত হয়েছিল।

এমন এক হতাশাজনক পরিস্থিতিতে সিরাজগঞ্জের স্থানীয় মানবিক কর্মী হিসেবে পরিচিত মামুন বিশ্বাস এই পরিবারের দুরবস্থার কথা জানতে পারেন এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। তিনি সুচিত্রার অসহায়ত্বের বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে দেশ এবং প্রবাসের অসংখ্য দাতা ও সহানুভূতিশীল মানুষ আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মামুন বিশ্বাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট দুই লাখ বত্রিশ হাজার টাকা জমা হয়।

সংগৃহীত সেই তহবিলের অর্থ দিয়েই সম্প্রতি উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের পলাশ কুমার ভৌমিকের সঙ্গে এক আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সুচিত্রার বিবাহ সম্পন্ন হয়। কোনো দিন ঘটা করে নিজের বিয়ে হওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারেননি জানিয়ে কনে সুচিত্রা এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মা কামনা রানী দাসও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, মামুন বিশ্বাস সময়মতো এগিয়ে না এলে হয়তো তাঁদের মেয়ের বিয়ে এবারও পণ্ড হয়ে যেত।

বিয়ের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর উদ্বৃত্ত তেইশ হাজার টাকা সুচিত্রার মায়ের হাতে নগদ তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা মামুন বিশ্বাস। তিনি জানান যে এই সফলতার পুরো কৃতিত্ব দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করা সাধারণ মানুষের, তিনি কেবল একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, মামুন বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরেই সমাজের এ ধরনের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মেয়েদের বিয়ে এবং পুনর্বাসনের কাজে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।