October 29, 2026, 3:53 pm
শিরোনাম :
বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে যুবসমাজ যেন প্রতারণার শিকার না হয়: প্রতিমন্ত্রী ইউনিয়ন পর্যায়ে স্ক্রিনিং ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করবে সরকার জেলে-কন্যা লিকার হাতে জাতীয় ব্যাডমিন্টনের শিরোপা, কাঁদলেন মা-মেয়ে ইস্ট ওয়েস্টে সেমিনার: সিনিয়রদের মিডিয়া লিটারেসিতে সহায়তার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার ১৫৪ কেন্দ্রের ফলে ১ লাখ ৭ হাজার ভোটে এগিয়ে ধানের শীষ রূপপুরে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে নভেম্বরে প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা আর অনুশোচনা—‘দার–এ–নিজাত’ নিয়ে এত আলোচনা কেন ‘এক সপ্তাহ ধরে বেঁচাবিক্রি নেই, কিস্তির টাকা কেমনে দেব’ জামায়াত থেকে আলাদা পরিচয় ধরে রাখতে চায় এনসিপি, লংমার্চে উপস্থিতি নিয়ে ভিন্ন চিন্তা দলটির স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে কমনওয়েলথে বাংলাদেশের পদক

রূপপুরে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ’, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে নভেম্বরে

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবার স্টেজ-সি বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। এই অনুমোদনের ফলে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে তা যুক্ত করার প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইতিবাচক সবুজ সংকেত পাওয়ার পর থেকেই প্রকল্পের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা পরবর্তী ধাপের কাজের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান গণমাধ্যমকে এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় এই ট্রায়াল অপারেশনাল অনুমোদন প্রদান করেছেন। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলো এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কুল্যান্ট ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর এবং সামগ্রিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া কেন্দ্রের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পারস্পরিক সমন্বয় যথাযথভাবে কাজ করছে কি না, তাও নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা কম রেখে পরীক্ষা শুরু করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা নির্দিষ্ট মাত্রায় উন্নীত হলেই কেবল জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন যে সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এই পুরো সময়সীমাটি নির্ভর করবে কারিগরি পরীক্ষার ফলাফল, কমিশনিং কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব শর্ত যথাযথভাবে পূরণের ওপর। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দুটি ইউনিট রয়েছে এবং প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা এক হাজার দুইশ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে।