October 28, 2026, 7:24 am
শিরোনাম :
মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি

‘ডিপফেক’ ঠেকাতে নিজ কণ্ঠের স্বত্ব চাইলেন মেলোনি

Reporter Name

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অবাধ অপব্যবহার এবং ডিপফেক জালিয়াতির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের কণ্ঠ ও ছবি বিকৃত করে ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রোধ করতেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। নিজের কণ্ঠস্বরকে আইনগত সুরক্ষা দিতে এবং এর ওপর ব্যক্তিগত স্বত্ব বা ট্রেডমার্ক পাওয়ার জন্য তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অফিসে বা ইইউআইপিও-র দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দিয়েছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইইউআইপিও-র দাপ্তরিক নথি থেকে মেলোনির এই আবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই আবেদনের অংশ হিসেবে চার সেকেন্ডের একটি নমুনা অডিও রেকর্ডিং জমা দিয়েছেন তিনি, যেখানে তাঁকে ইতালীয় ভাষায় নিজের বহুল পরিচিত সেই বিখ্যাত বাক্যটি উচ্চারণ করতে শোনা যায়। নিজের পরিচয়মূলক এই বাক্যটি ২০১৯ সালের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণের পর থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর আত্মজীবনীর শিরোনাম হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

ডিজিটাল মাধ্যমে জর্জিয়া মেলোনিকে লক্ষ্য করে মানহানিকর ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানোর ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে তাঁর চেহারা ও শরীর কৃত্রিমভাবে সম্পাদিত করে বিভিন্ন আপত্তিকর ও অসত্য ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মেলোনি বরাবরই এই ধরনের অপচেষ্টাকে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করার এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির হীন প্রচেষ্টা বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রতি তাঁর জোরালো আহ্বান ছিল যেন যেকোনো তথ্য বা ছবি অনলাইনে শেয়ার করার আগে এর সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া হয়।

যদিও ইইউআইপিও-র কাছে করা মেলোনির এই ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের আবেদনটি বর্তমানে পরীক্ষাধীন অবস্থায় রয়েছে, তবুও এটিকে সাইবার অপরাধ দমনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবেদন অনুমোদিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপফেক কনটেন্ট তৈরি সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পরিচালনা করা অনেক সহজ হবে। এর আগে পর্নোগ্রাফিক ডিপফেক ছবি তৈরির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলাও দায়ের করেছিলেন ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী, যা বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।