October 28, 2026, 7:24 am
শিরোনাম :
মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি

অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কেন, মাল্টা কেন ৫২০ টাকা: ব্যবসায়ীদের কাছে মন্ত্রীর প্রশ্ন

Reporter Name

বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম পাঁচশ টাকার বেশি হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে এই অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তলব করেন। একই সঙ্গে আমদানিকারক পর্যায় থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পণ্যের মূল্য ও খরচ কীভাবে বাড়ছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বাজারে ফলের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নিয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে চাহিদার তুলনায় আমদানি ও সরবরাহ কম থাকায় দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম কনটেইনার ফল দেশে পৌঁছানোয় এই ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে।

আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, উচ্চ শুল্কহার, পরিবহন খাতের বাড়তি খরচ এবং বন্দর ও জাহাজজনিত বিভিন্ন জটিলতার কারণে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে চালানে পৌঁছাতে দেরি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, যা অনেক ব্যবসায়ীকে আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য করেছে। তবে ব্যবসায়ীদের এই যুক্তির পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারকরা শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত নতুন করে ঋণপত্র খোলার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে বাজারে ফলের ঘাটতি দূর হয়।

বৈঠকে আসন্ন মৌসুমে খেজুরের সরবরাহ ও দাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই শুল্কসংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলা হয়েছে। খেজুরের অযৌক্তিক শুল্কায়ন মূল্য বা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু নির্ধারণের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কমিশন আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন যে, বাস্তবসম্মত বাজারদর ও আন্তর্জাতিক উৎস মূল্য বিবেচনা করে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার কাজ চলছে। সরকার আশা করছে, এসব পদক্ষেপে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হবেন না, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারাও সঠিক মূল্যে ফল কিনতে পারবেন।