
প্রযুক্তি ডেস্ক: জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রের কাল্পনিক ঘটনা এবার বাস্তবের মুখ দেখতে চলেছে। প্রচলিত ধারণা ছিল যে কোটি কোটি বছর আগের প্রাণীদের জীবাশ্মে কেবল শক্ত হাড় বা দাঁত টিকে থাকে এবং নরম অংশ বা রক্ত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সেই ধারণার অবসান ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো প্রাচীন এক ডাইনোসরের জীবাশ্মের ভেতরে অবিকৃত লাল রক্তকণিকা আবিষ্কার করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কারটি করেছেন। তারা অ্যারাটাসরাস নামের একটি থেরোপড ডাইনোসরের পেছনের পায়ের হাড় নিয়ে গবেষণা করছিলেন। আজ থেকে প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে বর্তমান ব্রাজিল অঞ্চলে এই ডাইনোসরটি বিচরণ করত। হাড়ের ভেতরের গঠন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পরীক্ষা করার সময় বিজ্ঞানীরা হুবহু লাল রক্তকণিকার মতো গোল গোল কিছু আণুবীক্ষণিক গঠন দেখতে পান।
বিজ্ঞানীরা হাই-পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি-ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি এবং রামন স্পেকট্রোস্কোপির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেন। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হন যে ওই গোলাকার গঠনগুলোর ভেতরে রক্তের মূল উপাদান হিম রয়েছে। মূলত হাউসম্যানাইট নামক এক ধরনের প্রাকৃতিক ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড খনিজের ভেতরে আটকে গিয়ে রক্তকণিকাগুলো খনিজ পদার্থে রূপান্তরিত হয়েছিল। এই বিশেষ খনিজ আবরণটি বর্মের মতো কাজ করে কোটি কোটি বছর ধরে রক্তের অণুগুলোকে সুরক্ষিত রেখেছিল।
গবেষক দলের অন্যতম প্রধান অধ্যাপক ক্লিটি গ্রাইস এই অর্জনকে বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার প্রমাণ করে যে জীবাশ্ম মানেই কেবল নির্জীব পাথর বা খনিজের টুকরো নয়, বরং উপযুক্ত পরিবেশে এগুলো আদিম প্রাণীর আণবিক ও রাসায়নিক তথ্যও ধরে রাখতে পারে। গবেষকরা এখন বিশ্বের সব জাদুঘরে সংরক্ষিত জীবাশ্মগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নতুন করে পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকাশক সম্পাদক: মফিজুর রহমান দপ্তরী
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ফিরোজ ম্যানসন (২য় তলা)
নওয়াপাড়া, অভয়নগর, যশোর।
www.noaparanews24.com