October 28, 2026, 2:36 am
শিরোনাম :
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলেও কি ট্রাম্পের তাণ্ডব থামবে এখনই কেন দূরে তাকাচ্ছেন না নাজমুল হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন হার্ভার্ডে সম্পূর্ণ অর্থায়নে ফেলোশিপের সুযোগ এআইয়ের সঙ্গে করা চ্যাট ডিলিট করলেও সব ডিলিট হয় না এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য জীববৈচিত্র্য: প্লাস্টিক বর্জ্যে সয়লাব সুন্দরবন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া আলোচনা: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে দুই দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

স্বৈরাচার উৎখাতে আমরা যতটা ভালো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় ততটাই খারাপ: মাহফুজ আনাম

Reporter Name

দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম সম্প্রতি একটি আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা কিংবা কর্তৃত্ববাদী সরকার হঠানোর ক্ষেত্রে জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর দক্ষতা সর্বদাই প্রশংসনীয়। কিন্তু দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে স্বৈরাচার হটানোর পর একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বেলায় বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তার এই পর্যবেক্ষণ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তিনি তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, আন্দোলনের মুখে কোনো স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার পরিবর্তে অনেক সময় পারস্পরিক কোন্দল ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির প্রাধান্য দেখা যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের সুফল পুরোপুরি ঘরে তোলা সম্ভব হয় না এবং রাষ্ট্রে বারবার ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও সুশাসন বা প্রকৃত গণতন্ত্র অধরাই থেকে যায়। একটি দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই রাষ্ট্রকাঠামো তৈরির জন্য যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং ঐকমত্য প্রয়োজন, তার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

মাহফুজ আনামের মতে, কেবল একজন স্বৈরশাসকের পতন ঘটানোই যথেষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতে যাতে কোনো শাসক আর স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সুযোগ না পায়, সেজন্য শক্তিশালী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংবাদমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং শক্তিশালী করতে না পারলে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নড়বড়ে থেকে যায়। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো যখনই রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থেকেছে, তখনই সংস্কারের কথা বললেও ক্ষমতায় এসে প্রায়শই সেই একই পুরনো ধারার চর্চা করেছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

দেশের গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী সমাজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দায় চাপালে চলবে না, বরং পুরো সমাজ ব্যবস্থার মানসিকতা পরিবর্তনের সময় এসেছে। একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও সচেতনতার মাধ্যমে দেশটিকে একটি নতুন পথে পরিচালনা করার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মন্তব্য করেন এই জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।