October 28, 2026, 10:53 pm

সৌদিতে ১৪১ ফ্লাইট প্রভাবিত, ভোগান্তিতে ২১ হাজার ৯৩৩ যাত্রী

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে উদ্ভূত পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইনসের মোট ১৪১টি ফ্লাইটের সময়সূচি ও কার্যক্রম সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি চলাচলকারী ৬৬টি এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাওয়া ৭৫টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী ও সাধারণ বিমানযাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই জটিলতার কারণে এ পর্যন্ত ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী নানামুখী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে সরাসরি ফ্লাইটগুলো, যার মধ্যে দেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৭টি ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি সরাসরি ফ্লাইট এই বিঘ্নের কবলে পড়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় বিদেশি বেশ কয়েকটি বড় এয়ারলাইনসও রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর ২৯টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় বিমান সংস্থা এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি, সালামএয়ারের সাতটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের আরোপ করা বিশেষ কিছু বিধিনিষেধের কারণেই মূলত ফ্লাইটগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীদের অনেকেরই ভ্রমণ পরিকল্পনা বা সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর ও যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ এড়াতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন বিমানবন্দরে রওনা দেওয়ার আগেই সংশ্নিষ্ট এয়ারলাইনসের হটলাইন বা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বিমানবন্দরে গিয়ে বিপাকে পড়ার ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।