October 28, 2026, 7:30 am
শিরোনাম :
মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি

যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: যৌনকর্ম, মানবপাচার এবং যৌন শোষণ এই বিষয়গুলোর মধ্যে স্পষ্ট ফারাক থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে নারীপক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। নারীপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত ‘যৌনকর্মকে অপরাধমুক্তকরণ ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক এই সভায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অধিকারকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা মনে করেন, যৌনকর্মকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এর সঠিক আইনি ও সামাজিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সভায় সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা বা শ্রমিক হিসেবে এর স্বীকৃতি দেওয়ার সঙ্গে মানবপাচারের কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকেই মূলত যৌনকর্ম বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটে যখন জোরপূর্বক কাউকে এই পেশায় নামানো হয়, যা স্পষ্টতই মানবপাচার এবং যৌন শোষণের আওতাভুক্ত। তাই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই পেশাকে বেছে নেওয়া নারীদের কাজের নিরাপত্তা বিধান করা এবং তাঁদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

নারীপক্ষের সংহতি প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান যে, নাগরিক হিসেবে সাধারণ নারী এবং একজন যৌনকর্মী নারীর আইনি অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো তফাত নেই। অথচ সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, যৌনকর্মীদের নানা ধরনের সামাজিক কলঙ্ক ও অপরাধপ্রবণতার ট্যাগ পরিয়ে রাখা হয়। বড় বড় সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে যতটা না আলোচনা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি নেতিবাচক অপবাদ এই প্রান্তিক নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এই সংকীর্ণ মানসিকতা দূর করে তাঁদের প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচকেরা আরও বলেন যে, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে এই পেশায় যুক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং তা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ। মানবপাচার কিংবা যৌন নিপীড়নের ক্ষেত্রে জবরদস্তি এবং সম্মতির অনুপস্থিতি মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, যা যৌনকর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সংবাদমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে এই পার্থক্যগুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করে তবেই প্রতিবেদন বা মত প্রকাশ করা উচিত। পরিশেষে, যৌনকর্মীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার পরিবেশ তৈরি করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।