October 28, 2026, 6:12 am
শিরোনাম :
সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার আলোচনা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও উপ-নির্বাচন: জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পক্ষপাতিত্বের পত্রিকা: ‘নতুন পে-স্কেলে বেতন দিতে ব্যাংক ঋণ নেয়া বাড়িয়েছে সরকার’ অর্থনীতির বিপদ ক্ষমতাসীনরা টের পেতে শুরু করেছেন

ভঙ্গুর অর্থনীতি সামলাতে দেশীয় কৌশলেই এগোচ্ছে সরকার

Reporter Name

অর্থনীতি ডেস্ক: অতীত থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা পুনরুদ্ধারে নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ব্যাংকিং ও রাজস্ব খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিজেরাই চিহ্নিত করে স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার শর্তের ওপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নির্বাচনি ইশতেহারের ভিত্তিতে এই অভ্যন্তরীণ সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো সংস্থার সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশের এই সুনির্দিষ্ট অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। এই সম্মেলনে যোগ দিতে দেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সম্মেলনে দেশের সংস্কার কার্যক্রম কোনো বহিরাগত চাপ নয়, বরং জনগণের ম্যান্ডেটের অংশ—এই বার্তাটি আন্তর্জাতিক মহলে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বিশ্বব্যাংকের কাঠামোর সঙ্গে সরকারের রূপরেখার সমন্বয় সাধনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কেবল বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে অর্থায়নের বহুমুখী উৎস খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কনসেশনাল বা সহজ শর্তের ঋণের পাশাপাশি স্থানীয় বন্ড, সুকুক বন্ড এবং প্রবাসীদের ওয়েজ আর্নার স্কিমসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ খাতকে কাজে লাগিয়ে তহবিল গঠন করা হবে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে স্থবিরতা, জিডিপির তুলনায় অত্যন্ত কম রাজস্ব আয় এবং ব্যাংকগুলোতে তীব্র তারল্য সংকটের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলো সামনে এসেছিল। এসব সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এখন অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনর্গঠন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন ব্যাংকে তারল্য সংকট এবং প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি থাকলেও বর্তমানে তা উত্তরণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের নিশ্চয়তা দেওয়ায় ব্যাংকিং খাতে ধীরে ধীরে আস্থার পরিবেশ ফিরে আসছে। পাশাপাশি, বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফেরাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।