October 28, 2026, 9:09 pm
শিরোনাম :
বীমা কোম্পানির সিএফও হতে লাগবে ৭ যোগ্যতা পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক নভেম্বরে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, সমর্থন জানাল ককরোচ পার্টি ১২৬৯ ভবনের মালিককে রাজউকের চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী, অথচ বসে থাকলেন তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরা আগৈলঝাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রেপ্তার তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া গত্যন্তর নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিচ্ছেন ইসরাইলিরা

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন প্রবাসী নাগরিকরা। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ধারা এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ইসরাইলি নাগরিক নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রবাসীদের অনেকে মনে করেন, বর্তমান প্রশাসনের নীতি এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং গণতন্ত্র রক্ষার তাগিদেই তারা মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইসরাইলের প্রচলিত নির্বাচনী আইন অনুযায়ী বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য ডাকযোগে বা অনুপস্থিত থেকে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হলে নির্বাচনের দিন বাধ্যতামূলকভাবে দেশটিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। এই নিয়মের কারণে নিউইয়র্ক, বার্লিন কিংবা ব্রুকলিনের মতো বিশ্বখ্যাত শহরগুলোতে বসবাসকারী ইসরাইলিরা দীর্ঘ বিমানযাত্রা করে নিজ ভূখণ্ডে ফিরে আসছেন। এমনই একজন প্রবাসী দম্পতি তাঁদের তিন সন্তানকে শিশু পরিচর্যাকারীর দায়িত্বে রেখে দীর্ঘ ছয় হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ইসরাইলে ফেরার এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। বিমানযাত্রার ক্লান্তি এবং যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মতো ঝুঁকি সত্ত্বেও তাঁরা মাতৃভূমির টানে এই যাত্রাকে আবশ্যকীয় দায়িত্ব বলে মনে করছেন।

দেশে ফেরার এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা। ওই প্রবাসী নাগরিক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান প্রশাসন দেশের সার্বিক কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার বিষয়ে বেশি আগ্রহী। গত তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে ইসরাইল বিশ্ববাসীর কাছে একঘরে হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু ইসরাইলি হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিল্প, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের কাজ বয়কটের মুখে পড়ছে। কট্টরপন্থী সরকারের সিদ্ধান্তের দায় সাধারণ নাগরিকদের ঘাড়েই এসে পড়ছে বলে বিশ্ববাসীর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও স্বীকার করেন তিনি।

ইসরাইলের গণতন্ত্র বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক ও বৈষম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশে ফেরা এসব নাগরিক। তবে সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা এবং রক্ষা করা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব বলে তাঁরা মনে করছেন। অতীতে একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় যাত্রীদের সাহসী ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাঁরা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল খুঁজে পান। সংকটময় মুহূর্তে অন্যের সাহায্যের অপেক্ষা না করে নিজেদেরই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে বলে বিশ্বাস করেন তাঁরা। ইহুদি ও ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিজ গ্রামে পুনরায় ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা এই লড়াইয়ে নেমেছেন। পরিশেষে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার বদলে গণতন্ত্র ও সমতাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণের লড়াইয়ে টিকে থাকাই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন।