যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশ প্রতিদিন যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি সেবাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু দায়িত্ব পালনের প্রধান বাহনটি এখন নিজেই যেন অচল হওয়ার পথে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে জীর্ণ ও ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকা পিকআপ গাড়িটি নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের।
সম্প্রতি দেখা গেছে, থানার ব্যবহৃত নীল রঙের পুলিশ পিকআপটির বিভিন্ন স্থানে মরিচা ধরে গেছে। সামনের আসনের নিচের ফ্লোরে বড় বড় ছিদ্র তৈরি হয়েছে। সিটের কভার ছিঁড়ে ভেতরের ফোম বেরিয়ে এসেছে। দরজার বিভিন্ন অংশে মরিচা ও ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। এমনকি গাড়ির ভেতরের মেঝেও অনেক জায়গায় নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গাড়িটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানা দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে দায়িত্ব পালন করে। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, কাভার্ডভ্যান, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। শিল্পাঞ্চল নওয়াপাড়া এবং মোংলা বন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় এই সড়কে যানবাহনের চাপ সবসময়ই বেশি থাকে। ফলে সামান্য দুর্ঘটনা বা বিকল যানবাহনের কারণেও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যানজট নিরসন, দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য যানবাহনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ির কারণে অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এতে জনভোগান্তিও বাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আধুনিক ও নতুন গাড়ির বিকল্প নেই। তারা বলেন, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ যদি নিরাপদ ও কার্যক্ষম যানবাহন না পায়, তাহলে দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা দেখা দেবে।
একাধিক পরিবহন চালক জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে যানজট কম সময়ে নিরসন সম্ভব হয়। কিন্তু গাড়ির যান্ত্রিক সমস্যা থাকলে সেই কাজ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে সাধারণ যাত্রী, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, পুরোনো গাড়িটি নিয়ে প্রতিদিনই দায়িত্ব পালন করতে হয়। গাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘ পথ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। কখন কোথায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেবে, তা নিয়েও উদ্বেগ থাকে। তবুও সরকারি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য উন্নতমানের ও নির্ভরযোগ্য যানবাহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুর্ঘটনার পর প্রথম সাড়া প্রদানকারী সংস্থাগুলোর অন্যতম হলো হাইওয়ে পুলিশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর অনেক সময় মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নির্ভর করে।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানা শুধু যানজট নিরসনই নয়, মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং প্রতিরোধ, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা তদন্ত, চুরি হওয়া যানবাহন উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করে। কিন্তু সীমিত ও জরাজীর্ণ যানবাহন দিয়ে এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বক্কার জানান, পরিবহন মালিক ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকারী নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার জন্য দ্রুত একটি নতুন ও আধুনিক পুলিশ পিকআপ বা টহল যান বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুরোনো গাড়িটির পরিবর্তে নিরাপদ যানবাহন সরবরাহ করলে পুলিশের কর্মদক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি মহাসড়কে দুর্ঘটনা মোকাবিলা ও যানজট নিরসনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আধুনিক ও নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করা গেলে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশ আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
প্রকাশক সম্পাদক: মফিজুর রহমান দপ্তরী
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
ফিরোজ ম্যানসন (২য় তলা)
নওয়াপাড়া, অভয়নগর, যশোর।
www.noaparanews24.com