October 28, 2026, 7:57 am
শিরোনাম :
গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

তিস্তা প্রকল্প কি ভূরাজনৈতিক খেলায় পরিণত হচ্ছে

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তিগুলো নিজেদের কৌশলগত অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টা করছে। ফলে প্রকল্পটি কেবল একটি পানিসম্পদ উন্নয়নের অবকাঠামো না হয়ে বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এই মেগা প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে এক ধরনের নীরব ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। দুই দেশেরই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ জড়িত থাকায় এই নদীর পানিবণ্টন ও অববাহিকা উন্নয়ন বিষয়টি এখন কেবল ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপক্ষীয় আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে হচ্ছে।

ভারত ও চীনের এই প্রভাব বলয়ের বাইরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে নিজেদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী এই দেশের আকস্মিক তৎপরতা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং তিস্তা অববাহিকাকে কেন্দ্র করে বড় রাষ্ট্রগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বহুপক্ষীয় এই আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করতে পারে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জেরও জন্ম দিচ্ছে।

এই জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কীভাবে তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে এবং নেতিবাচক প্রভাব এড়াবে, তা অত্যন্ত জরুরি একটি প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা এই সংকট উত্তরণে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সব পক্ষের সঙ্গে সুষম কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। সঠিক কৌশল গ্রহণ করা না গেলে তিস্তা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পাশাপাশি তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।