October 28, 2026, 1:43 am
শিরোনাম :
এআইয়ের সঙ্গে করা চ্যাট ডিলিট করলেও সব ডিলিট হয় না এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য জীববৈচিত্র্য: প্লাস্টিক বর্জ্যে সয়লাব সুন্দরবন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া আলোচনা: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে দুই দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো প্রার্থী বাছাইয়ে এমপিদের নিয়ে চিন্তায় বিএনপি ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট নিয়ে সুখবর দিল সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ঘরে বসে কোরআনের অর্থ শিখবেন যেভাবে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা চলবে না: মুসাদ্দিক

গাইবান্ধার সেই ‘এক টাকার মাস্টার’ লুৎফুর রহমান পেলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

Reporter Name

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত নামমাত্র মূল্যে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন গাইবান্ধার এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক লুৎফুর রহমান। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি বা সরকারি শিক্ষকতার পদ ছাড়াই তিনি গত ৫২ বছর ধরে কেবল এক টাকার বিনিময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে আসছেন। তাঁর এই সুদীর্ঘ আত্মত্যাগ এবং শিক্ষার প্রসারে অনন্য অবদানের কথা অবশেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়িত হয়েছে, যা স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।

একজন প্রথাগত শিক্ষক না হয়েও জীবনভর শিক্ষার ব্রত নিয়ে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটির কাজের পরিধি ও নিষ্ঠা এখন সর্বমহলে সমাদৃত। আর্থিক সচ্ছলতার কথা না ভেবে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়েছেন অবহেলিত শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে, যাদের অনেকেই আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার কথা গণমাধ্যমে আসার পর তা সাধারণ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং সরকারের নজরে আসে।

তাঁর এই সুদীর্ঘ সাধনা ও নিরলস অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্র এবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তাঁকে সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি অবসর–ভাতা দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ ঘোষণার ফলে তাঁর জীবনের শেষ সময়ে এসে একটি বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলো, যা তাঁর দীর্ঘদিনের কষ্টের কিছুটা হলেও লাঘব করবে।

লুৎফুর রহমানের এই অর্জন শুধু তাঁর নিজের জন্য নয়, বরং গোটা গাইবান্ধা জেলার জন্যই একটি বড় গৌরবের বিষয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেশের অন্যান্য প্রান্তের নিবেদিতপ্রাণ গুণীজন ও শিক্ষকদের সমাজসেবামূলক কাজে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।