October 28, 2026, 1:35 am
শিরোনাম :
এআইয়ের সঙ্গে করা চ্যাট ডিলিট করলেও সব ডিলিট হয় না এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য জীববৈচিত্র্য: প্লাস্টিক বর্জ্যে সয়লাব সুন্দরবন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া আলোচনা: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে দুই দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো প্রার্থী বাছাইয়ে এমপিদের নিয়ে চিন্তায় বিএনপি ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট নিয়ে সুখবর দিল সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ঘরে বসে কোরআনের অর্থ শিখবেন যেভাবে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে গলাকাটা ফি নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা চলবে না: মুসাদ্দিক

ইসরাইলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

Reporter Name

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি। আন্তর্জাতিক গবেষক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ‘ডিফেন্স ডিভিডেন্ডস অব দ্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশটির অস্ত্র রপ্তানি প্রায় ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে তেলআবিব। এমনকি ইরানের সঙ্গেও তাদের সরাসরি সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদনে।

পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালে ইসরাইল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে মাত্র ৮৩০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছিল। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেটি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশটির সামরিক পণ্যের বৈশ্বিক বাজার ও বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলি অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বহুলাংশে প্রসারিত হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে তাদের অস্ত্রের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এসব অস্ত্র ক্রয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের তৈরি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কয়েকটি আরব দেশ। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মরক্কোর মতো দেশগুলো ইসরাইল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে। এই তিন দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি আমদানি করে শীর্ষস্থান দখল করেছে। গত কয়েক বছরে আব্রাহাম চুক্তির সুবাদে তেলআবিব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।

এই প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অংশ হিসেবে ২০২২ সালে ইসরাইলের রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস আমিরাতের কাছে মাঝারি পাল্লার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘স্পাইডার এমআর’ হস্তান্তর করে। একই সময়ে এলবিট সিস্টেমস এবং ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ইসরাইলি সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো আমিরাতে নানা ধরনের অস্ত্র ও প্রযুক্তি রপ্তানি অব্যাহত রাখে। কেবল অস্ত্র কেনাবেচাতেই এই অংশীদারিত্ব সীমাবদ্ধ নেই, বরং দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ইডিজিই ইসরাইলের অন্তত আটটি প্রযুক্তি ও অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।