October 28, 2026, 7:59 am
শিরোনাম :
গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪ মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করবে বাংলাদেশ-ইইউ

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানবপাচারের মতো অপরাধ রোধ করতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইইউর অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার। এ সময় দুই পক্ষই নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ উপায়ে কর্মী প্রেরণের ওপর বিশেষ জোর দেয় এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।

বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান যে বর্তমান সরকার নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। অভিবাসন খাতের অনিয়ম দূর করতে এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে ইতিমধ্যে ৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের প্রবেশাধিকার আরও প্রসারিত করার জোরালো আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে অবৈধ অভিবাসন দমনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনে সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে ইইউর ‘ট্যালেন্ট পার্টনার’ হিসেবে যৌথভাবে কাজ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও এই অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার কথা বলা হয়, যাতে ইউরোপের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত কর্মী সরবরাহ করা সম্ভব হয়। দুই পক্ষের আলোচনায় অভিবাসন খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ইইউর কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি আইসিটি, নির্মাণ, টেক্সটাইল, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি এবং হসপিটালিটি খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ডে দক্ষতা মূল্যায়ন, সনদ প্রদান, ভাষা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল নিয়োগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।