October 28, 2026, 1:47 pm
শিরোনাম :
নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয় ‘আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে’ দক্ষ জনশক্তি গড়তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির আপাতত পরিকল্পনা নেই, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী যে কারণে ২৫টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত করল সরকার টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি মাখানোর প্রতিবাদে উদীচীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপন করার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং এর প্রতিবাদে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই সাংস্কৃতিক অবমাননার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই ধরনের উগ্র মানসিকতা বাঙালি সংস্কৃতির মূল চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত। তাই এর বিরুদ্ধে কেবল মৌখিক প্রতিবাদ নয়, বরং সংস্কৃতির শক্তি দিয়েই রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে উদীচী।

প্রতিকৃতি অবমাননার প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘যে কবি জনতার’। এই স্লোগানের আওladে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় রবীন্দ্রনাথের অমর সৃষ্টিকর্ম, তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং গভীর মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের মতে, রবীন্দ্রনাথ শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি বাঙালি জাতির হাজার বছরের মানসলোকের প্রতীক। তাঁর দর্শনকে হেয় প্রতিপন্ন করার যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এই মঞ্চ থেকে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে এক গভীর আবেগময় পরিবেশের সৃষ্টি করে। এর পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি, তাঁর নাটক থেকে অংশবিশেষ পাঠ এবং নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে কবিগুরুর দর্শন ও আদর্শকে ফুটিয়ে তোলা হয়। পরিবেশনাগুলোর মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় এমন এক বাংলাদেশ যেখানে সব ধর্মের ও মতের মানুষ সম্প্রীতিতে বসবাস করতে পারে। উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতারাও শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে প্রতিবাদী এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সংহতি প্রকাশ করেন।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, সমাজে অন্ধত্ব ও কূপমণ্ডূকতা যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তা রোধ করতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্বমানের মনীষীদের অবমাননা করার সংস্কৃতি রুখে দিতে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। উদীচীর নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাঙালির মুক্তবুদ্ধি ও সংস্কৃতির ওপর যে কোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে তারা সব সময় রাজপথে ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সোচ্চার থাকবেন।