October 29, 2026, 5:00 am
শিরোনাম :
ভোট দিয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল বললেন, ‘শতভাগ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’ প্রাণ-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডসের চূড়ান্ত বিচারকার্যে দেশের বিশিষ্টজনেরা পকেটে হারমোনিকা, কোথায় পাব, দাম কত যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন হুইপ জি কে গউছ মাতারবাড়ী হয়ে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে চায় জাপান, যা বলল ভারত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে, আবার সাগরে ছুটবে মাছ ধরার নৌকা গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ: এএফপির প্রতিবেদন প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা সরকারি দলের পক্ষে সমর্থনের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায়

মেরু ভালুক সাদা নয়!

Reporter Name

ফিচার ডেস্ক: বরফের রাজ্যের রাজা হিসেবে পরিচিত মেরু ভালুক বা পোলার বিয়ার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। আমরা সাধারণত মনে করে থাকি যে এই প্রাণীটির পশমের মতো চামড়াও বুঝি ধবধবে সাদা। কিন্তু আর্কটিক অঞ্চলের বন্যপ্রাণী গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বরফের সাদা আবরণে ঢাকা এই বিশাল আকৃতির প্রাণীগুলোর আসল চামড়ার রঙ আসলে সম্পূর্ণ কালো।

নবজাতক মেরু ভালুকের জীবন শুরু হয় একেবারেই ভিন্ন এক শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে। জন্ম নেওয়ার সময় মাত্র পাঁচশত গ্রাম ওজনের ছোট্ট শাবকগুলো সম্পূর্ণ অন্ধ এবং দাঁতহীন হয়ে থাকে। এ সময় তাদের শরীরের ত্বক থাকে ফ্যাকাশে গোলাপি রঙের এবং গায়ে কোনো পশমও থাকে না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের শারীরিক গঠনে পরিবর্তন আসতে শুরু করে এবং জন্মের তিন থেকে চার মাস বয়সের মধ্যে সেই গোলাপি ত্বক স্থায়ীভাবে কালো রঙে রূপ নেয়।

প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, জন্মলগ্নের পর এই শাবকগুলোর ঘন পশমের নিচে কালো ত্বক বেশ স্পষ্টভাবেই ফুটে ওঠে। তবে আমাদের খালি চোখে মেরু ভালুককে সাদা মনে হওয়ার আসল কারণ লুকিয়ে আছে তাদের লোমের কাঠামোর মধ্যে। এদের লোমগুলো আসলে অস্বচ্ছ নয়, বরং অত্যন্ত পাতলা এবং স্বচ্ছ প্রকৃতির। এই স্বচ্ছ লোমগুলোর ওপর সূর্যের আলো পড়ার পর তা প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে সাদা রঙের একটি ভ্রম তৈরি করে।

মেরু ভালুকের চামড়া কালো হওয়ার পেছনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু জৈবিক ও প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে, যার বেশিরভাগই সূর্যের আলোর সাথে জড়িত। আর্কটিক অঞ্চলের চরম ঠান্ডা এবং হাড়কাঁপানো পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য এই কালো চামড়া অত্যন্ত উপযোগী। এদের স্বচ্ছ লোম আলোর প্রতিফলন ঘটালেও নিচের কালো ত্বক চারপাশের সূর্যের তাপ খুব দ্রুত শোষণ করে নেয়, যা তীব্র ঠান্ডার মাঝেও তাদের দেহকে উষ্ণ ও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও মেরু ভালুকের কালো চামড়া তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আরও একটি বড় সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে। বরফাবৃত মেরু অঞ্চলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে এই কালো ত্বক তাদের শরীরকে সুরক্ষিত রাখে। অর্থাৎ প্রকৃতির নানামুখী প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে টিকে থাকার এক দারুণ কৌশল হিসেবেই এই প্রাণীর চামড়ার রঙ কালো হয়ে বিবর্তিত হয়েছে।