October 28, 2026, 7:15 am
শিরোনাম :
কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার আলোচনা

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের চারজনের দাফন, এলাকায় শোকের ছায়া

Reporter Name

ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় ঘাতক বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারানো একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ শেষ পর্যন্ত দাফন করা হয়েছে। জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জানাজা শেষে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কেবল ওই পরিবারের চারজনই নন, বরং চালকসহ মোট সাতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। প্রিয়জনদের এমন আকস্মিক ও একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে টাইলসের ঠিকাদারি কাজ করতেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু। গত ৩ অক্টোবর সকালে তিনি তাঁর বৃদ্ধা মা রাশিদা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা বেগম এবং পাঁচ বছরের নাতি মোজাব্বিদ ইসলাম মিনানকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় পৌঁছানোর পর জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস তাঁদের বহনকারী অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালকসহ গাড়িতে থাকা সব যাত্রী মারা যান।

নিহতদের জানাজার সময় ও স্থান ভিন্ন হলেও স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিপুল সংখ্যায় অংশ নেন। মর্জিনা বেগম ও তাঁর শিশুপুত্র মিনানের জানাজা সকাল নয়টায় গোড়ারকান্দা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, মোফাজ্জল হোসেন ও তাঁর মা রাশিদা বেগমের জানাজা সকাল দশটায় দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া এলাকায় সম্পন্ন হয়। এর পরপরই তাঁদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্বজনরা জানান, মা, মেয়ে ও নাতিকে কিছুদিন নিজের কাছে গাজীপুরে রাখার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন, কিন্তু এই আনন্দযাত্রা যে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হবে তা কেউ কল্পনাও করেননি।

এদিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই পরিবহনের বাসগুলোর বেপরোয়া চলাচলের কারণে এর আগেও বহুবার দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জিয়াউল হকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সড়কের সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কঠোরভাবে তদন্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।