October 29, 2026, 4:07 am
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন হুইপ জি কে গউছ মাতারবাড়ী হয়ে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে চায় জাপান, যা বলল ভারত ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে, আবার সাগরে ছুটবে মাছ ধরার নৌকা গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়নে ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ: এএফপির প্রতিবেদন প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা সরকারি দলের পক্ষে সমর্থনের অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায় ব্যাংক খাত ঠিক হবে তো? ফ্রান্সসহ ইউরোপে বিক্ষোভের জন্য মুসলমানরা দায়ী! স্বাধীন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট

মঞ্চে আসছে নবরসের নতুন নাটক ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’

Reporter Name

বিনোদন ডেস্ক: বাংলা নাট্যাঙ্গনে নতুন কাজের সুসংবাদ নিয়ে আসছে নৃত্য ও নাটকের দল নবরস। পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সোজন বাদিয়ার ঘাট অবলম্বনে নির্মিত একই নামের নাটকটি খুব শীঘ্রই মঞ্চে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। এটি সংশ্লিষ্ট নাট্যদলের পঞ্চম প্রযোজনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। আগামী ৬ নভেম্বর রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চূড়ান্ত মহড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কলাকুশলীরা।

কাব্যগ্রন্থটির মূল প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে শিমুলতলী নামের একটি শান্ত গ্রামকে কেন্দ্র করে। এই গ্রামে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। ধর্মের ভিন্নতা থাকলেও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ। এই গ্রামেরই দুই কিশোর-কিশোরী সোজন ও দুলী ছোটবেলা থেকেই একে অপরের পরম বন্ধু ও খেলার সাথি ছিল। তবে সময়ের আবর্তে গ্রামে সাম্প্রদায়িক সংকটের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়লে তাদের সেই মধুর শৈশবের সম্পর্ক করুণ বিরহে পর্যবসিত হয়। কবি জসীমউদ্‌দীন তাঁর অমর পঙ্‌ক্তিমালায় এই সামাজিক বাস্তবতা ও নিখাদ প্রেমের করুণ পরিণতি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

জনপ্রিয় এই কাব্যগ্রন্থটিকে নাটক হিসেবে রূপদান করে এর নির্দেশনার দায়িত্ব সামলেছেন সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা। তাঁর দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটছে এই নির্মাণে। নির্দেশক জানান যে অতীতেও অন্যান্য দল এটি মঞ্চে আনলেও বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতা আরও অনেক বেশি। সমাজে ধর্মীয় দ্বন্দ্ব, জটিলতা ও কুসংস্কার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রকৃত পরিচয় যে তার কর্মের মাধ্যমেই হওয়া উচিত—সেটিই এই নাটকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রেমের মোড়কে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিতেই মূলত ক্লাসিক এই সাহিত্যকর্মটি নতুন আঙ্গিকে মঞ্চে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়।

মঞ্চ রূপান্তরের ক্ষেত্রে মূল গল্পের মূল সুর ও আবেগ অক্ষুণ্ন রেখে কিছু প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নাটকের আবহ এবং গল্পের গভীরতা আরও বাড়িয়ে তুলতে এতে নতুন তিনটি গান সংযোজন করা হয়েছে। এই গানগুলোর কথা লিখেছেন খোদ নির্দেশক সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা নিজেই। অন্যদিকে, নাটকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন একদল প্রতিশ্রুতিশীল অভিনয়শিল্পী। এতে সোজন চরিত্রে ইউসুফ রাসেল অথবা শাহীন আলম জীবন এবং দুলী চরিত্রে শামছি আরা সায়েকা কিংবা নীলিমা রাশেদ অভিনয় করবেন। এছাড়া সোজন ও দুলীর ছোটবেলার চরিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে দেখা যাবে কাশফি আলফি আহমেদ ও আফিয়া জামান সৃজাকে।