October 28, 2026, 7:15 am
শিরোনাম :
কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার আলোচনা

প্রাচীন দাঁত দেখে গবেষকেরা জানালেন, মানুষ সুপারি খেত ২৫ হাজার বছর আগে থেকেই

Reporter Name

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের কাছে সুপারি খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত প্রাচীন হলেও এর ইতিহাস যে এত সুদূর প্রসারী, তা সম্প্রতি উন্মোচন করেছেন গবেষকেরা। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে যে, বরফ যুগের সময়কালেও মানুষের মধ্যে সুপারি চিবানোর প্রচলন ছিল। ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের সময় উদ্ধার করা প্রাচীন মানুষের দাঁতের নমুনা বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এই যুগান্তকারী তথ্য পেয়েছেন। এই আবিষ্কার মানুষের খাদ্যাভ্যাস এবং নেশাজাতীয় বস্তু ব্যবহারের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা দক্ষিণ সুলাওয়েসিতে প্রাচীন শিকারি-সংগ্রাহক যুগের দুই ব্যক্তির কঙ্কাল আবিষ্কার করেন, যাদের জীবনকালের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার বছরের ব্যবধান ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, দুই ব্যক্তির দাঁতেই অদ্ভুত ধরনের গভীর এবং গোলাকার ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে, যা প্রাগৈতিহাসিক মানুষের দাঁতে সচরাচর দেখা যায় না। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শক্ত ও গোলাকার বস্তু দাঁতের মাঝে রেখে চিবানোর ফলেই যে এই গভীর খাঁজ তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পরবর্তীতে সুপারির বীজের আকৃতির সঙ্গে এই ক্ষয়ের মিল খুঁজে পান তারা এবং এক ব্যক্তির দাঁতে তো সংবেদনশীল অংশ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ক্ষয়ও লক্ষ্য করা যায়।

প্রাচীন মানুষের এই সুপারি খাওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে গবেষকেরা কৃত্রিম লালায় সুপারি ভিজিয়ে পরীক্ষা চালান। পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে, দীর্ঘ সময় লালার সংস্পর্শে থাকলে গোটা সুপারি থেকেই অ্যারেকোলিন নামের একটি সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান নির্গত হয়, যা মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে ওই প্রাচীন মানুষের দাঁতের জৈব-আণবিক বিশ্লেষণেও অ্যারেকোলিনের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে গবেষকদের ধারণা আরও জোরালো হয় যে, সেই প্রাচীন শিকারি-সংগ্রাহকেরা কেবল শখেরবশে নয়, বরং নিয়মিতভাবেই সুপারি চিবোতেন।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, শুধু নেশা বা সতেজতার অনুভূতি পেতেই নয়, বরং দাঁতের তীব্র ব্যথা কমাতেও হয়তো সুপারি ব্যবহার করা হতো। কারণ অ্যারেকোলিনের মধ্যে ব্যথা উপশম করার কিছু প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে এর ফলে একটি নেতিবাচক চক্র তৈরি হয়েছিল, কারণ সুপারি চিবানোর ফলে দাঁতের ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পেত। তা সত্ত্বেও সাময়িক স্বস্তির কারণে প্রাচীন মানুষেরা এই অভ্যাস ধরে রেখেছিলেন। সামগ্রিকভাবে এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, কৃষিভিত্তিক সভ্যতার সূচনারও বহু আগে থেকেই মানুষ নেশাজাতীয় উদ্ভিদের ব্যবহার জানত এবং এর শেকড় মানব ইতিহাসের অনেক গভীরে প্রোথিত রয়েছে।