October 28, 2026, 11:14 pm

ছাত্র আন্দোলন কীভাবে সার্বিয়ার ভুচিচের ১৪ বছরের ক্ষমতার পতন ঘটাল

Reporter Name

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ায় দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের রাজনৈতিক সাম্রাজ্য অবশেষে ছাত্র আন্দোলনের তীব্র আন্দোলনের মুখে ভেঙে পড়েছে। দেশজুড়ে গড়ে ওঠা এই শক্তিশালী তারুণ্যের প্রতিবাদ দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক গতিপথ সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে সক্ষম হয়।

সার্বিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ছাত্র আন্দোলন কেবল একটি প্রতিবাদ নয়, বরং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষের বিস্ফোরণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ভুচিচের শাসনামলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হওয়া, মতপ্রকাশের ওপর কড়াকড়ি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগ বারবার উঠেছে। তরুণ প্রজন্ম এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামে এবং সাধারণ মানুষকেও নিজেদের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হয়। তাদের সুসংগঠিত কর্মসূচি এবং আপসহীন অবস্থানই এই অভাবনীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

আন্দোলনের শুরুর দিকে বর্তমান প্রশাসন এটিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও সময়ের সাথে সাথে এর পরিধি অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সমাজ এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাস্তায় নেমে আসে। সরকারি দমনপীড়ন ও নানা বাধা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি থেকে পিছু হটেনি, যা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সরকারকে নমনীয় হতে বাধ্য করে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা ধরে রাখা কোনো নেতার পতন ঘটানোর ক্ষেত্রে সার্বীয় শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য অন্যান্য দেশের তরুণ সমাজকেও নতুন করে পথ দেখাবে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের এক নবদিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সার্বিয়ার রাজনীতিতে তারুণ্যের এই বিজয় প্রমাণ করেছে যে, সুসংগঠিত জনরোষের সামনে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী রাজনৈতিক আধিপত্যও টিকতে পারে না।