October 28, 2026, 1:47 pm
শিরোনাম :
নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয় ‘আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে’ দক্ষ জনশক্তি গড়তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির আপাতত পরিকল্পনা নেই, জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী যে কারণে ২৫টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় শিফট স্থগিত করল সরকার টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে: নাহিদ ইসলাম ৫ বছরে এক কোটি মানুষ বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আইইডিসিআর পরিচালককে মারধর চিকিৎসাসেবার ইতিহাসে কালো অধ্যায়: জামায়াত আমির
/ Uncategorized

চিকিৎসক সংকট, নেই অস্ত্রোপচারকক্ষ

Reporter Name

স্বাস্থ্য ডেস্ক: চাঁদপুরের মেঘনা তীরবর্তী হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবলসংকট এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিতে ধুঁকছে। প্রায় দেড় লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র এই ভরসাস্থলে অপারেশন থিয়েটার বা অস্ত্রোপচারকক্ষ না থাকায় জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত রোগী বহির্বিভাগে ভিড় করলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাদের জেলা সদরে ছুটতে হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের একদিকে যেমন অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি আর্থিক অপচয় ঘটছে প্রতিনিয়ত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত ১৩১টি পদের মধ্যে বর্তমানে ৫৬টি পদই শূন্য পড়ে রয়েছে। কাগজে-কলমে ২০ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১১ জন, যার ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো কনসালট্যান্ট না থাকায় জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র রেফার করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। এ ছাড়া ৩০টি নার্স পদের বিপরীতে ২৬ জন কর্মরত থাকলেও অন্যান্য সহায়ক জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

চিকিৎসাকেন্দ্রটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকা এবং প্যাথলজি সেবার বেহাল দশা। এখানে কোনো এক্স-রে মেশিন বা আলট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা নেই এবং সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ানের পদও খালি রয়েছে। ফলে সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার জন্য রোগীদের হাসপাতালের বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হয়। কেবল স্বাভাবিক প্রসবের সেবা চালু থাকলেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেই প্রসূতি নারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দূরবর্তী হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

এদিকে ৩১ শয্যার এই চিকিৎসাকেন্দ্রকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগ দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। অবশেষে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে সম্প্রতি নতুন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নির্মাণকাজ শেষ হলে এবং চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারিত হলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বড় ধরনের স্বস্তি পাবে।