October 28, 2026, 7:14 am
শিরোনাম :
কম্বোডিয়া থেকে ৯ মাসে বহিষ্কার তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি, আলোচনায় সাইবার স্ক্যাম জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কারো অবৈধ সাম্রাজ্য টিকানোর দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ই-পারিবারিক আপিল আদালত চালু হচ্ছে কাল সমুদ্রে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম ভারি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের জনজীবন, প্রায় ২ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দর্শকের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যই যেন বেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক, ঢাকায় কার্যালয় খোলার আলোচনা

কুষ্টিয়ায় লালন মেলার মাঠ থেকে ২০০০ কলকে জব্দ

Reporter Name

জাতীয় ডেস্ক: বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় লালন আখড়াবাড়ির মেলার মাঠে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হাজার গাঁজা সেবনের কলকে জব্দ করেছে পুলিশ। যার বাজারমূল্য দুই লাখ টাকার অধিক বলে জানা গেছে। উৎসব শুরুর আগেই প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে সাধু-ভক্ত ও সচেতন মহলে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানমালা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গত ১১ অক্টোবর থেকেই আখড়াবাড়ি ও এর আশপাশের এলাকায় ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উৎসব চলাকালীন যেকোনো ধরনের মাদক সেবন, ক্রয়-বিক্রয় এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। মূলত উৎসবের পবিত্রতা রক্ষা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লালনভক্তদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, মেলার সময় আখড়াবাড়ির বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের জমজমাট আসর বসে। ছেঁউড়িয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম জানান, প্রতিবছর মেলার সময় মাদকের অবাধ উপস্থিতির কারণে লালনের দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিবেশ তৈরি হয়, যা খুবই লজ্জাজনক। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা ভক্ত শান্ত ফকির ও মানিকগঞ্জের ফজলুল হক স্পষ্টভাবে জানান যে, গাঁজা বা মাদকের সঙ্গে বাউলসম্রাট ফকির লালনের দর্শনের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই এবং প্রকৃত ভক্তরা কখনোই এর সঙ্গে জড়িত নন। তারা সবাই উৎসবটিকে সবসময় মাদকমুক্ত দেখতে চান।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, পুলিশ সুপারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় লালন উৎসবকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিদিন এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। এছাড়া লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান উল্লেখ করেছেন যে, তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত করতে প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।