
রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, কেবল ক্ষমা প্রার্থনা করলেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শকের পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা ও পুলিশি পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে তিনি অবিলম্বে আইজিপির পদত্যাগ দাবি করেন এবং যত দ্রুত সম্ভব তাকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। গাজীপুর জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দলীয় এক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই জোরালো মন্তব্য করেন। ঢাকা বিভাগ উত্তরের সাংগঠনিক অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে সিফাত নামের এক যুবকের কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে এনে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এই রাজনৈতিক নেতা। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদ করায় গত সেপ্টেম্বর মাসে সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হয়। সিফাতের মা সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং ছেলের মুক্তির দাবিতে দীর্ঘ দুই মাস ধরে বিভিন্ন মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে এই আইন ব্যবহার করেছে, বর্তমান প্রশাসনও একই পথ অনুসরণ করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া গাজীপুরের শ্রীপুরের এনসিপি সদস্য সজনসহ সকল রাজবন্দীর দ্রুত মুক্তি দাবি করেন তিনি।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল এলাকার চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবি প্রসঙ্গে এনসিপির শীর্ষ এই নেতা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেন। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শ্রমিকদের বেতন যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। শ্রমিকদের নায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
উক্ত সমন্বয় সভায় দলটির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারজিস আলম, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ এবং ঢাকা বিভাগ উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভা শেষে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রস্তুতির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।